ছাত্র রাজনীতি বলে কি আর কিছু আছে?

ছাত্র রাজনীতি বলে কি আর কিছু আছে?
Rate this post

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠন দেখেছি। সেখানে ছিল আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, বিএনপির ছাত্রদল। তারা তাদের ক্যারিশমা প্রতিষ্ঠার জন্যও বেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এরশাদের শাসনামলে আমরা সেটাই দেখেছি, যদিও এরশাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রসমাজ খুব একটা এগোয়নি।

এটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন, যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। সেখান থেকে বিরোধী দল উৎখাত হবে। বিএনপি আমলে ছাত্রদলের ক্ষেত্রে আমরা তা দেখেছি। এরপর আওয়ামী লীগের শাসনামলে ছাত্রদলকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ভিসি এবং প্রভোস্টদের ভূমিকা কী তা আমরা জানি না, কারণ ছাত্রলীগের নেতারাই ছাত্রদের হলগুলোতে জায়গা বরাদ্দ করেন। আর নবাগত ছাত্রদের 'গেস্ট রুমে' নামানো হয়। 'গেস্ট রুম' সংস্কৃতি ইঙ্গিত দেয় যে আমরা সভ্যতার কত নিম্ন স্তরে ডুবে গেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে আমরা যত বাগাড়ম্বরই করি না কেন, 'গণরুম' (গণরুম) সংস্কৃতির শেষ হাসি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বেশ কিছুদিন ধরেই এসব থেকে মুক্ত ছিল। যারা তাদের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় পারদর্শী তারা প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা সত্ত্বেও বুয়েটে ভর্তি হন। কিন্তু এখন এই ব্যবস্থাও হুমকির মুখে। এরই কুৎসিত প্রতিফলন আবরার ফরহাদ হত্যা। ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই যারা দেশে থাকেন এবং যারা দেশের বাইরে থেকে রাজনীতি করেন, তারা আবরার শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। তাদের কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে কাউকে শিবিরের দাগ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হতে পারে।

এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে বুয়েটে। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পড়তে যায়। তারা জানে যে তাদের পড়াশোনা শেষে তারা দেশে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা এখানে চাকরি পাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাদের অনেকেই ভালো ফলাফল করে বিদেশে চলে যায়। তারা বিশ্বের অনেক শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভর্তি হয়।

আমরা আমাদের চারপাশে যেসব বড় নেতাদের সন্তান দেখি তারা ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের কোনো অংশ নয়। তাদের অনেকেই এদেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও করে না। তাদের অনেকেই বিদেশে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করেন। তাদের বাবা ও দাদা এখানকার সংসদ সদস্য। এমপি হতে তাদের ছাত্র রাজনীতির প্রেক্ষাপট লাগে না। তাদের সন্তানরা এমন পচা ছাত্র রাজনীতিতে জড়াবে না। অন্যের বংশধর তাদের জন্য তাদের শিঙা ফুঁকবে। এটি একটি দ্বৈত-মান।

source

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *