বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ড: রাজউক অন্যের দোষ খুঁজে, নিজের অবহেলা উপেক্ষা

বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ড: রাজউক অন্যের দোষ খুঁজে, নিজের অবহেলা উপেক্ষা
Rate this post

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটি নগরীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে যেখানে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, রাজউকের নিজস্ব পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়নি, যদিও কোনো ভবন যে উদ্দেশ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রাজউকের।

রাজউক কর্তৃক গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ২৭ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করে।

যে বিল্ডিংটিতে বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ ছিল ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে আগুন লাগে। রমনা থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, রাজউকের ভবন পরিদর্শকদের ‘ম্যানেজ’ করে ওই ভবনে রেস্টুরেন্টগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু রাজউকের তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে এমন কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি।

যেকোনো ভবন ব্যবহারের জন্য 'অকুপেন্সি সার্টিফিকেট' নেওয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, রাজউকের অনুমোদন মেনে নির্মাণ করা হলেও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজউক উল্লেখ করেছে, আট তলা গ্রিন কোজি কটেজ ভবনটির কোনো দখল সনদ নেই। শেষ পর্যন্ত কোনো অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি 11 বছর ধরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ডিএসসিসি পাঁচটি রেস্তোরাঁকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে ভবনে কাজ করার ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি রেস্তোরাঁকে ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত সার্টিফিকেট দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নি নিরাপত্তা অনুমোদন দেওয়ার আগে রাজউকের অনুমোদিত নকশা এবং দখলদারি শংসাপত্রের মতো বিষয়গুলি পরীক্ষা করা উচিত ছিল।

রাজউকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ভবন দখলদারি সনদ পেয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব এককভাবে রাজউকের। তাই এ ক্ষেত্রে রাজউক তার দায় এড়াতে পারে না। ভবন মালিকরা অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিতে নারাজ এবং রাজউকের কোনো মনিটরিং নেই। ঢাকা মহানগরীর মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ভবন দখলদারি সনদ পেয়েছে। রাজউক এখানে উদাসীনতার পাশাপাশি উদ্যেগের অভাব দেখিয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কথা বলা হলেও এ দুটি সংস্থার কাউকে দায়ী করা হয়নি। বরং সব দোষ ভবন মালিক ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের ওপর চাপিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মোহাম্মদ আবদুল আহাদ।

গতকাল প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজউক চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।

source

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *